Summary
এই লেখাটিতে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতার একাত্মতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
- মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা: মাতৃভূমি প্রতিটি মানুষের জন্য আবেগময় এবং তা মানুষের জীবনকে পূর্ণতা দেয়। এখানে সুখের সন্ধান দেশের মাটিতেই।
- ত্যাগ এবং সুখ: প্রকৃত সুখ ত্যাগের মধ্যে নিহিত। অন্যের আনন্দ-বেদনাকে নিজের বলে গ্রহণ করার মাধ্যমে সবাই সুখী হতে পারে।
- মানুষ জাতির একাত্মতা: জাতি, ধর্ম, গাত্রবর্ণের পার্থক্য উপেক্ষা করে, সকল মানুষের অনুভূতি সমান। সবার অনুভূতিকে মূল্য দিয়ে একসাথে জীবনযাপন করলে সমাজ সুন্দর হতে পারে।
এক
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
সার্থক জনম মা গো, তোমায় ভালোবেসে।।
জানি নে তোর ধনরতন
আছে কি না রানির মতন,
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে॥
কোন বনেতে জানি নে ফুল
গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে।।
আঁখি মেলে তোমার আলো
প্রথম আমার চোখ জুড়ালো
ওই আলোতে নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে।
সারমর্ম: ধনরত্নে পূর্ণ না থাকলেও মাতৃভূমি প্রতিটি মানুষের কাছেই প্রিয়। স্বদেশ পূর্ণতা দেয়, আর এজন্য মানুষ শেষ আশ্রয়টুকু দেশের মাটিতেই চায়।
দুই
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ;
'সুখ' 'সুখ' করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।
সারমর্ম: ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। অন্যকে বাদ দিয়ে কেউ একা চলতে পারে না। সুখী হতে পারে না। সব মানুষেরই দায়িত্ব অন্যের আনন্দ-বেদনাকে নিজের বলে গ্রহণ করা। এভাবেই সমাজে সকল মানুষ সুখী হতে পারে।
তিন
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলো ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।
সারমর্ম: জাতি, ধর্ম, গাত্রবর্ণে পার্থক্য থাকলেও এসকল পরিচয়ের ঊর্ধ্বে হচ্ছে মানুষ জাতি। সব মানুষের অনুভূতিই সমান। মানুষে-মানুষে পার্থক্য করা তাই অন্যায়। সকলের অনুভূতিকে মূল্য দিয়ে একসঙ্গে জীবনযাপন করলেই পৃথিবী সুন্দর হবে।
Read more